সাইক্লোন আম্ফান ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ছুটে আসছে

সাইক্লোন আম্ফান ভারত বাংলাদেশ

বঙ্গোপসাগরে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় সাইক্লোন আম্ফান ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ছুটে আসছে , এ দুটি দেশেই এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ধ্বংস এবং উত্থানের সম্ভাবনা নিয়ে আসে যা এখনও কোভিড ১৯ মহামারী নিয়ে লড়াই করছে।

সাইক্লোন আম্ফান  আটলান্টিক হারিকেন অথবা পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের  সুপার টাইফুন এর সমতুল্য জোরদার একটি বিভাগ 4 এর  মত শক্তিশালী। আম্ফান প্রতি ঘন্টায় ১৫০ মাইল  বাতাসকে টেনে নিচ্ছে (যেটা হচ্ছে ২৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায়)। যদিও আবহাওয়া দপ্তর আশা করছে যে গঙ্গা রিভার ডেল্টা এর কাছে এই তুফান বুধবারের আগে দুর্বল হয়ে পড়বে।

ভারতের মেট্রলজিক্যাল  ডিপার্টমেন্ট সোমবার দিন বলেন  এই  সাইক্লোন আম্ফান দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের মধ্যবর্তী জায়গা  থেকে সরে উত্তর- উত্তর পূর্ব দিকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় বেড়ে চলছে গত ৬ ঘন্টায় এবং এটি একটি  প্রবল সাইক্লোন  বলে চিহ্নিত করা হয়েছে । 

কিন্তু যদি এই  তুফান কিছুটা  দুর্বল হওয়ার পরেও যদি হিট করে তাহলেও ভালো ক্ষতির সম্ভাবনা আছে। গরিব এবং নিকটবর্তী  অধিক  বসতিপূর্ন  জায়গাতে  যেখানে কুখ্যাতভাবে অবিশ্বাস্য অবকাঠামো  আছে  সেখানে আমফান ল্যান্ডফোল করার পূর্বাভাস । যদি এটি নিম্ন-ডেল্টায় অবতরণ করে তবে বড় ঝড়ের উত্থানের সম্ভাবনাও রয়েছে, সম্ভবত ৩০ ফুট (৯ মিটার) পর্যন্তও।

প্রাকৃতিক বিপর্যয় এ পৃথিবীর একটা ট্রেজিক্যালি কমন ব্যাপার , কিন্তু গ্লোবাল হেলথ এমার্জেন্সি অনুযায়ী এটা সবচেয়ে বড় একটা সাইক্লোন আম্ফান ভারত বাংলাদেশ কে একসঙ্গে হিট করবে।

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় এর ডাটা অনুযায়ীসোমবার দিন সকাল পর্যন্ত বাংলাদেশএ মহামারী তে প্রায় ২২২৬৮ রোগে আক্রান্ত এবং ৩২৮ জনের মৃত্যু  হয়েছে , যেখানে ভারত প্রায় ৯৬,১৬৯ জন মানুষ মহামারীতে আক্রান্ত এবং তারমধ্যে ৩০২৯ জনের মানুষের মৃত্যু হয়েছে

দুটো  দেশেই মহামারী  প্রকোপ কম হয়নি অন্তত বেড়েই চলছে। 

সাইক্লোন আম্ফান ভারত বাংলাদেশ

সোমবার দিন ভারতের  অথরিটি থেকে জানা গেছে যে  ২৪ ঘন্টার মধ্যে অন্তত ৫০০০ এরও বেশি করোনা ভাইরাস মহামারী কেস ধরা পড়েছে। সবচেয়ে হায়েস্ট নাম্বার  যখন থেকে করোনা ভাইরাস শুরু হয়েছে । বাংলাদেশ  এর স্বাস্থ্য এবং ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার মিনিস্টার মতে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১২৭৩ নূতন কেস ধরা পড়েছে ।

এরমধ্যে  এই  বড় সাইক্লোন  খুবই অসুবিধা সৃষ্টি করবে  কারণ  সাইক্লোন এর দ্বারা যদি কিছু ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং সেই জায়গা থেকে মানুষকে সরিয়ে অন্য জায়গাতে রাখা এবং সেটাও এই মহামারী সময় যেখানে সোশ্যাল ডিসটেন্স মেনে চলা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ।

ভারতের  উড়িষ্যাতে  অলরেডি ১২ টি সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাতে হাই অ্যালার্ট দেয়া হয়েছে  যেখানে নিকটবর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে  জেটি  ভারত এবং বাংলাদেশ বর্ডার এর অন্তর্গত সেখানে অন্তত ৬ টি সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাতে সাইক্লোন এর সম্ভাবনা আছে তারমধ্যে কলকাতা শহর অন্তর্গত, ভারতের মধ্যে একটি সবচেয়ে জনবহুল শহর যেখানে প্রায় ৪৪ লক্ষ মানুষ বসবাস করে

জাতীয় দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনীর কর্মকর্তা বলেছেন যে অলরেডি ১০ টি  টিমকে  উড়িষ্যায় এবং ৭ টি  টিমকে  পশ্চিমবঙ্গে  নিযুক্ত করে মানুষদের সরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা শুরু করা দেওয়া হয়েছে । আরো ২০ জন  কর্মী তৈরি আছে।

এই সাইক্লোন  খুব বেশি বৃষ্টিপাতের  সম্ভাবনা নিয়ে আসছে পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ রিফিউজি ক্যাম্প কক্সবাজারে  যেখানে প্রায় দশ লক্ষ,  রোহিঙ্গা রিফ্রজেরা বাস করে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা থেকে  পলায়ন এরপর । 

এই সাইক্লোন একটি  ক্যাম্পে ধ্বংসাত্মক হতে পারে যেখানে  গত সপ্তাহে   করোনা ভাইরাস এর একটি কেস ধরা পড়েছে সুতরাং যদি কেম্পে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে সেটা খুবই ভয়াবহ হয়ে যাবে। 

১২ টি  সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চল –  গঞ্জাম,গজপতি, পুরী,জগৎসিংহপুরে,কেন্দ্রপাড়া,ভদ্রক,বালাসোর, ময়ূরভঞ্জ, জাজপুর, কাটাক,  এবং নয়াগড় খুব উচ্চ সতর্কতা মধ্যে আছে। 

 

একটি ভাল পঠিত: লকডাউন ৪.০ সম্পূর্ণ আলাদা বাড়িয়ে দেয়া হলো ৩১ মে পর্যন্ত

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *